দুই হাজার বছর আগের পুড়ে যাওয়া পাণ্ডুলিপির লেখা উন্মোচন করল এআই

প্রকাশঃ জুলাই ৬, ২০২৬ সময়ঃ ৯:৫৮ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:৫৮ অপরাহ্ণ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অত্যাধুনিক ডিজিটাল ইমেজিং প্রযুক্তির সহায়তায় প্রায় দুই হাজার বছর আগে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে পুড়ে যাওয়া একটি প্রাচীন রোমান পাণ্ডুলিপির সম্পূর্ণ লেখা প্রথমবারের মতো পাঠোদ্ধার করেছেন গবেষকেরা। এই সাফল্যকে প্রত্নতত্ত্ব ও প্রাচীন ইতিহাস গবেষণায় যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতালির প্রাচীন শহর হারকুলেনিয়াম ৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মাউন্ট ভিসুভিয়াসের অগ্ন্যুৎপাতে ধ্বংস হয়ে যায়। সেই সময় অসংখ্য প্যাপিরাস স্ক্রোল আগুনে পুড়ে কয়লার মতো কালো ও অত্যন্ত ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সেগুলোর ভেতরের লেখা পড়া প্রায় অসম্ভব ছিল।

গবেষকেরা এবার কোনো স্ক্রোল না খুলেই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এক্স-রে স্ক্যান, কম্পিউটার বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সেগুলোর ভেতরের লেখা শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। এই পদ্ধতিতে পাণ্ডুলিপির ক্ষতি ছাড়াই ভেতরের তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া একটি পাণ্ডুলিপিতে প্রায় ২০টি কলামজুড়ে দেড় মিটারের মতো পাঠযোগ্য লেখা পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি যীশু খ্রিষ্টের জন্মের প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ বছর আগের রচনা। এতে নৈতিকতা, শিল্পচর্চা এবং মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিভিন্ন দার্শনিক আলোচনা রয়েছে।

এ ছাড়া নতুনভাবে উন্মোচিত উপকরণের মধ্যে প্রাচীন এপিকিউরীয় দার্শনিক ফিলোডেমাসের রচিত ‘অন ভাইসেস, বুক–১’-এর প্রায় ৭০টি কলামের লেখাও রয়েছে।

এই গবেষণার পেছনে কাজ করছে ভিসুভিয়াস চ্যালেঞ্জ নামের একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা স্ক্যান করা প্যাপিরাস, সফটওয়্যার, তথ্যভান্ডার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যে ব্যক্তি বা দল অন্য কোনো স্ক্রোল সম্পূর্ণ পাঠোদ্ধার করতে পারবে, তাদের জন্য ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রকল্পটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ইউনিভার্সিটি অব কেনটাকির কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ব্রেন্ট সিলস বলেন, এক বছর আগেও ক্ষতিগ্রস্ত স্ক্রোল না খুলে সম্পূর্ণ লেখা পড়া সম্ভব হবে বলে কেউ ভাবেননি। কিন্তু বর্তমান প্রযুক্তি সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছে। তার বিশ্বাস, ভবিষ্যতে হারকুলেনিয়ামে উদ্ধার হওয়া সব স্ক্রোলই এভাবে পাঠোদ্ধার করা যাবে।

বর্তমানে প্রায় ৪৫টি স্ক্রোল ও এর খণ্ডাংশ ডিজিটালভাবে স্ক্যান করা হয়েছে। তবে এখনো ৬০০টির বেশি স্ক্রোল অক্ষত অবস্থায় রয়েছে, যেগুলোর ভেতরের লেখাও একই প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ধার করার পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, যেখান থেকে এসব স্ক্রোল পাওয়া গেছে, সেই প্রাচীন ভিলার বড় অংশ এখনো খনন করা হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে আরও মূল্যবান পাণ্ডুলিপি উদ্ধারের সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রকল্পটির প্রধান প্যাপিরোলজিস্ট ফেডেরিকা নিকোলার্ডি বলেন, নতুন প্রযুক্তির কারণে গবেষণার গতি অভাবনীয়ভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি সম্পূর্ণ স্ক্রোল ভার্চুয়ালি উন্মুক্ত করা হয়েছে, যেখান থেকে প্রায় ১৪০টি নতুন কলামের লেখা পাওয়া গেছে। তার মতে, প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় এটি এক নতুন যুগের সূচনা।

প্রতি / এডি / শাআ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G